সংবাদ শিরোনাম:

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

বরগুনায় আচরণবিধি লঙ্ঘন: ডিসি-এসপি’র সামনে বিদ্রোহী প্রার্থীর মিছিল


বরগুনা পৌরসভায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সামনে বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাদাত হোসেনের সমর্থকরা মিছিল বের করেছে শহরে। মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় হঠাৎ করেই শতাধিক নারী সমর্থকদের অংশগ্রহণে মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ করে। শহরের সদর রোডে বরগুনা প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিলটি যাবার সময় পিছনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের গাড়ি এবং সামনে ডিবি পুলিশের একটি টিম লক্ষ্য করা গেছে।

জানা গেছে, বরগুনা পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাদাত হোসেনের জগ প্রতীকের ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে প্রায় শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে মিছিল নিয়ে শাহাদাত হোসেনের বাসা থেকে বেরিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। এ সময় মিছিলকারীরা উচ্চস্বরে শাহাদাত ভাইয়ের মার্কা, জগ মার্কা। শাহাদাত ভাই ভয় নেই, আমরা আছি আপনার সাথে। 


এ সময় উৎসুক জনতা নারীদের মিছিল দেখতেছিল। পৌরসভার ভোটার জাফর বলেন, নির্বাচনী প্রচার শুরু হয় বেলা দুইটার পরে। কী ভাবে জগ মার্কার সমর্থকরা বেলা সাড়ে ১২ টায় শহরে মিছিল করে। সাংবাদিক মুশফিক আরিফ বলেন, শাহাদাত হোসেন একজন দুর্নীতিবাজ। কালো টাকার জোরে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে আচরণ বিধি লংঘন করে নারীদের দিয়ে শহরে মিছিল দেওয়া এটা অপরাধ।


বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাচানুর রহমান ঝন্টু বলেন, এটা আচরণ বিধি লংঘন হয়েছে। স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জসীম উদ্দিন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রচার চালিয়ে গেলেও শাহাদাত হোসেন কোন আইন কানুন মানছে না।

অপর স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মো: ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, শাহাদাত হোসেনের কালো টাকার জোরে জেলা নিটার্নিং কর্মকর্তা দীলিপ কুমার হাওলাদার বিক্রি হয়ে গেছে। শাহাদাত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কম্পিটারও ব্যবহার করে। শাহাদাতের কাছে তারা জিম্মি হয়েছে।


এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ওই মিছিলের খবর আমি জানতাম না। আমি এবং পুলিশ সুপার বরগুনা সরকারি কলেজে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষনে যেতে ছিলাম। এ সময় রাস্তায় একটি মিছিল দেখেছি। কিসের মিছিল তখন আমরা বুঝতে পারিনি।


পুলিশ সুপার মুহম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, কাকতালীয় ভাবে মিছিলটির সাথে দেখা হয়েছে। এটা নিয়ে ভুল ধারণা করার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।


জেলা নির্বাচন অফিসার ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা দিলীপ কুমার হাওলাদার বলেন, মিছিলের খবর আমি শুনেছি। লিখিত কোন অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নৌকার প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী একটির পর একটি অপরাধ করে যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে গগন স্কুল সংলগ্ন সরকারী আশ্রায়নে আমার কর্মির উপর হামলা করেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার অ্যাপস ব্যবহার করে পথসভার সময় সূচী দেয়। আমাদের প্রচার ক্যাম্পে হামলা চালায়। আমার কর্মির বাড়ীতে পূলিশ পাঠিয়ে তল্লাসি করায়। এই বিদ্রোহী প্রার্থীর কোন ভোট নেই। একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য তিনি এমন কাজ করে যাচ্ছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাদাত হোসেনকে অনেক বার ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

Post a Comment

0 Comments